বীণা নন্দী দাস:পশ্চিম মেদিনীপুর :এখন আমরা বুঝতে পারছি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কেন এদেরকে অসভ্য এবং বর্বর বলেছিল! মেদিনীপুরের এসপি অফিস অভিযান সমাবেশ থেকে বিজেপিকে কটাক্ষ সিপিআইএমের রাজ্য নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির।
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে সেখানে ভোট হচ্ছে না। এটাই তো পনেরো বছরে তৃণমূলের আমলে হয়ে এসেছে। সেটাইতো বিজেপির চার মাসের শাসনকালে ঘুরেফিরে একই ভাবে হচ্ছে। মেদিনীপুরে এসপি অফিস অভিযানে এসে এমনই মন্তব্য করলেন সিপিএমের নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন,
আজকে এসপি অফিসের বাইরে হাজার হাজার লোক কেন এসেছে। সিস্টেম পরিবর্তন করার কথা ছিল শুধুমাত্র মুখ পরিবর্তনের কথা ছিল না।
একমাস দুমাস যতটা সময় নিচ্ছে পুলিশ নিক, যদি গুন্ডা কন্ট্রোল করতে না পারে তাহলে মানুষের সাথে পুলিশের সংঘাত সরাসরি হবে।
সমস্ত বামপন্থী কমিউনিস্ট ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক দলগুলি এক প্ল্যাটফর্মের তলায় আসবে।
গোটা দুনিয়াতে কাল মার্কস, লেলিনের মূর্তি ভেঙ্গে দিলেও মজুরের রাজ এবং বড়লোকের দমন এর যে তত্ব যারা কাল মার্কসের নামে কাল কাপড় ঢেকেছে তারাও প্রত্যেকদিন জীবনের যন্ত্রণাতে তাদেরকেও এই পথে এই মতবাদে এই দর্শনেই নিজেদের পেটের ভাত যোগাড় করতে হবে।
এর পাশাপাশি তিনি বলেন,
গোটা পশ্চিম মেদিনীপুরে এবং সেই সঙ্গে রাজ্যে যেভাবে বামপন্থী কর্মীরা এবং তাদের দলীয় অফিস যেভাবে আক্রান্ত হচ্ছে সেটা দেখে কি মনে হচ্ছে যে পুলিশের শাসন রয়েছে। পুলিশ আর গুন্ডামি একসাথে কিভাবে চলতে পারে । পুলিশ থাকলে তো গুন্ডামি হবেনা। আর গুন্ডামি হচ্ছে তার মানে পুলিশ কাজ করছে না। যারা আজকে সরকার পরিচালনা করছে তারা গত ১৫ বছর তৃণমূলের আমলে আইনের শাসন ছিল না সেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তো মানুষের কাছে ভোট চেয়েছিলেন। তাহলে গত পাঁচ মাসে কি আইনের শাসন চলছে বলতে পারব, যেখানে চন্দ্রকোনা রোডে সিপিএম কার্যালয় ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গরবেতাতে সিপিএম কর্মীরা ঘর ছাড়া। কোথাও পার্টি অফিসে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে আবার কোথাও পার্টি অফিসের বাইরে ধর্ম কর্ম করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে কি কোন ধর্মীয় স্থানের অভাব রয়েছে?কেউ ধর্ম-কর্ম করতে চাইলে ধর্মচারণ করতে চাইলে তাদেরকে কেউ বাধা দিয়েছে?তাহলে সিপিএম পার্টি অফিসের বাইরেই কেন ধর্ম কর্ম করতে হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে নোংরামি। এখন আমরা বুঝতে পারছি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু কেন এদেরকে অসভ্য এবং বর্বর বলেছিল।
এদিন মেদিনীপুর শহরে বামেদের ডাকে ছিল এসপি অফিস অভিযান। এসপি অফিস যাওয়ার রাস্তায় আগে থেকেই পুলিশ পর পর গার্ডওয়াল দিয়ে রেখেছিল। রাখা রয়েছে জল কামান। এদিন জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের করতে হবে, এস আই আর স্থগিত করতে হবে। সমস্ত ন্যায্য ভোটারের নাম বহাল করতে হবে এই দাবিতে এবং জেলা জুড়ে বিজেপি দুষ্কৃতীদের হামলা অফিস দখলের প্রতিবাদে ও পুলিশের মিথ্যা মামলা রদ এর দাবিতে
বামপন্থী দলসমূহের আহবানে এসপি অফিস অভিযান ছিল।নেতৃত্বে ছিলেন মীনাক্ষী মুখার্জি।দুপুরে মেদিনীপুর কলেজ মাঠ থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিল রিং রোড প্রদক্ষিণ করে এসে পৌঁছায় এসপি অফিসের সামনে মঙ্গল পান্ডে সরণিতে। সেখানে বিক্ষোভ অবস্থান ও সভা শুরু হয়।তবে বামকর্মীরা কোনো ব্যারিকেড ভাঙেনি। শান্তিপূর্ণ ভাবেই তাদের বিক্ষোভ সভা করে। এদিকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় এবং কোনরূপ অশান্তি না হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে পুলিশ। এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে মীনাক্ষী মুখার্জি ছাড়াও ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল, সিপিআই এর জেলা সম্পাদক বিপ্লব ভট্ট সহ অন্যান্য বাম শরিক দলের নেতৃত্বরা।