বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: বাঙালির ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো একটা বড় উৎসব। সেই উৎসবের প্রাক্কালে শহরের বাজারে ক্রেতাদের ভিড়। লক্ষ্মী পুজোতে ফলমূল, ধানের ছড়া এবং পুজোর অন্যান্য উপকরণ কেনার ব্যস্ততা,অপরদিকে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের স্বাদের রেডিমেড নারকেল, তিল, ও মুড়কি সহ নাড়ু। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের লক্ষীর পা সহ রেডিমেড স্টিকার আলপনা। যে স্টিকার তুলেই বাড়ির মেঝেতে বসিয়ে দিলে সাথে সাথেই কাজ হয়ে যাবে। সময়ের সাথে বদলাচ্ছে পুজোর ধরন, আজ সেই পরিবর্তনেরই দেখা গেল বাজারে।
রবিবার সন্ধ্যায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ইতিমধ্যেই বাঙালিদের ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি কিন্তু তুঙ্গে। এদিন সকাল থেকেই মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন বাজারে লক্ষ্মীপুজোর সামগ্রী কিনতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল যথেষ্ট। পুজোর উপকরণ ধানের ছড়া ফল ও বিভিন্ন নাড়ু এবং আলপনা কেনার যথেষ্ট ব্যস্ত ছিল সাধারণ মানুষ। বাঙালিদের লক্ষ্মীপুজো মানেই বাড়ির মেঝে, উঠোন কিংবা প্রবেশপথে মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আলপনা দেওয়ার একটা প্রচলিত রীতি রয়েছে। সাদা খড়িমাটির সাথে বিভিন্ন রঙ ও তার উপকরণ দিয়ে নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলত আলপনার নকশা। বাড়ির দুয়ারে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার মধ্য দিয়েই মা লক্ষ্মীর আগমনকে স্বাগত জানানো হয়।
একটা সময় দেখা গিয়েছে বাড়ির মা-কাকিমা, দিদি-বোনদের আলপনা আঁকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাড়ু তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতেন তারা। বাড়িতেই তৈরি হতো নারকেল, তিল, আর মুড়কির নাড়ু। এখন বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষের কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেরই হাতে সময় নেই।তাই পুরানো ঐতিহ্য বজায় রাখতে গিয়ে এখন রেডিমেড জিনিসের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে মানুষের। এখন সমস্ত বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নকশার স্টিকার আলপনা, লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ও প্যাকেটজাত রেডিমেড নাড়ু।
যার ফলে খুব অল্প সময়েই পুজোর প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও বর্তমানে এখন এই চাহিদাকে ঘিরেই লক্ষ্মীপুজোর বাজারে যথেষ্ট বেড়েছে বিক্রি।
তবে পুরানো ঐতিহ্যের সাথে সাথে আধুনিকতার মেলবন্ধনে বাড়িতে বাড়িতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা এক অনন্য অনুভূতি রয়েছে বাঙালির মনে।