মহম্মদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া: শারদীয় উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে মা লক্ষ্মীর আরাধনা। আর এই লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করেই এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়া জেলার ছাতনা ব্লকের হাটগ্রাম। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপূজো মণ্ডপে মুখোমুখি হলেন জেলার দুই কৃতি ব্যক্তিত্ব— একজন রাজনীতির আঙিনায় মানুষের মন জয় করা জননেতা, আর অন্যজন নিজের হাতের জাদুতে বাঁকুড়ার ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়া জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী।
এদিন হাটগ্রামের লক্ষ্মীপুজো মণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন ছাতনা বিধানসভার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। বিধায়ক মণ্ডপে পৌঁছাতেই পুজো কমিটির সদস্য এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। ঠিক সেই সময়ই পুজো মণ্ডপে উপস্থিত হন হাটগ্রাম তথা সমগ্র বাঁকুড়া জেলার গর্ব, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শঙ্খশিল্পী বাবলু নন্দী।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শঙ্খশিল্পী বাবলু নন্দী উত্তরীয় ও স্মারক তুলে দিয়ে বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়কে আন্তরিক অভিনন্দন ও সংবর্ধনা জানান। জেলার একজন শ্রেষ্ঠ শিল্পীর হাত থেকে এই সম্মান পেয়ে আপ্লুত খোদ বিধায়কও।
সংবর্ধনা নেওয়ার পর বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায় জানান, “হাটগ্রামের লক্ষ্মীপুজোয় এসে সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আমি ধন্য। তার ওপর আমাদের বাঁকুড়ার অহংকার, জাতীয় স্তরে পুরস্কৃত শ্রদ্ধেয় বাবলু নন্দী যেভাবে আমাকে অভিনন্দন জানালেন, তা আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। ওনার মতো শিল্পীরাই আমাদের জেলার আসল সম্পদ। ওনার এই আশীর্বাদ আমাকে আগামীদিনে মানুষের জন্য আরও বেশি করে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
অন্যদিকে শিল্পী বাবলু নন্দী জানান, এলাকার বিধায়ক যেভাবে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকেন এবং এলাকার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সচেষ্ট হন, তার জন্যই গ্রামীণ উৎসবের এই পুণ্য লগ্নে ওনাকে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
রাজনীতি আর শিল্পের এই মেলবন্ধনে হাটগ্রামের পুজো মণ্ডপে উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে একসঙ্গে পেয়ে মণ্ডপে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও পুজো উদ্যোক্তারা করতালির মাধ্যমে এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখেন।