সায়নী সরকার: পূর্ব বর্ধমান: দুর্গাপুজো নয় লক্ষ্মী পুজোতেই মেতে ওঠেন পূর্ব বর্ধমানের এই এলাকার বাসিন্দারা,প্রতি ঘরেই হয় আত্মীয়দের সমগম,সাত দিন ধরে চলে নানান সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও মেলা।
দুর্গাপুজো মানে বড় বড় মণ্ডপ ও বিভিন্ন থিমের পুজো কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের লক্ষ্মী পুজোতেও রয়েছে থিমের চমক। প্রতিবছরের এই লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠে শহর।পূর্ব বর্ধমানের সর্ববৃহৎ বারোয়ারী ও থিমের লক্ষ্মী পুজো মানেই বর্ধমানের বাজেপ্রতাপপুরের তা-বাজার বারোয়ারি লক্ষ্মী পুজো।৭ দিন ধরে চলে এই থিমের পুজো,প্রতিদিনই হয় নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,এমনকি বসে গ্রামীণ মেলাও,করা হয় অন্নকূটের আয়োজন আর এই পুজো দেখতে বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় জমান বাজেপ্রতাপুরে।
আজ থেকে প্রায় ৫৩ বছর আগে ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি কামনায় তা-বাজার এলাকার মুড়ি ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রায় ১২ টি পরিবার মিলে শুরু করেন এই পুজো।যদিও রুটি-রুজির টানে নতুন প্রজন্মের অনেকেই বেছে নিয়েছেন বিকল্প পেশা কিন্ত আজও কমে নি এই পুজোর জৌলুস।লক্ষ্মী পুজোর জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন সমগ্র এলাকার বাসিন্দারা।
বাংলার ঐতিহ্যবাহি বাউল শিল্পকে ফুটিয়ে তুলেছে তা বাজার বারোয়ারী লক্ষ্মীপুজো কমিটি,তাদের এবছরের পুজোর থিম "বাউল কুটির"। গ্রাম বাংলার বাউল কুঠিরের আদলে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পুজো মন্ডপ।পুজোর বাজেট প্রায় দুই লক্ষ টাকা।মণ্ডপও গড়ে তোলা হয়েছে থিমের সাথে তাল মিলিয়ে।
উল্লেখ্য,বাজেপ্রতাপপুর তা- বাজার বারোয়ারী লক্ষীপুজো কমিটির সাথে যুক্ত সকলেই হাতে ভাজা মুড়ির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।আজ থেকে প্রায় ৫৩ বছর আগে মুড়ি ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির কামনায় প্রথমে ১২টি পরিবার একত্রিত হয়ে এই বারোয়ারি লক্ষ্মী পুজো শুরু করলেও বর্তমানে প্রায় ৪০ টি পরিবার যুক্ত রয়েছেন এই পুজোর সঙ্গে।বর্তমানে মেশিন মুড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নবীন প্রজন্মের অনেকেই রুটি-রুজির তাগিদে অন্য পেশায় যুক্ত হলেও আজও নিয়ম করে প্রবীণরা চাহিদা অনুযায়ী হাতে ভাজা মুড়ি সরবরাহ করেন জেলার নানান প্রান্তে।তবে লক্ষ্মীপুজোর দিনগুলিতে মুড়ি ভাজা বন্ধ থাকে।আত্মীয় স্বজনদের সমাগমে এই কটা দিন সকলেই মেতে উঠেন পুজোর আনন্দে, আর থিমের এই লক্ষ্মীপুজো দেখতে ভিড় জমান দূরদুরান্তের দর্শনার্থীরা।জীবন-জীবিকার হাজার টানাপোড়েনের মধ্যেও ঐতিহ্যের এই পুজো আজও স্বমহিমায় অমলিন।পুজোকে কেন্দ্র করে বসে গ্রামীণ মেলা,আনন্দে মেতে উঠেন সমগ্র এলাকাবাসী।