Sunday, November 1, 2026
জেলা

ধনুক হাতে ঐতিহ্যবাহী রাবণ দহনের সূচনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

Published by Newz4 Admin |
বীনা নন্দী দাস Posted by বীনা নন্দী দাস
- October 21, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
ধনুক হাতে ঐতিহ্যবাহী রাবণ দহনের সূচনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর: ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ আর উৎসবের উন্মাদনায় ফের এক অনন্য নজির গড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের রেলশহর খড়্গপুর। ১০২ বছরে পদার্পণ করল খড়্গপুরের ঐতিহ্যবাহী রাবণ দহন উৎসব। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন শহরে কার্যত জনস্রোতের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে উৎসবের মঞ্চ ও সংলগ্ন এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে রাবণ দহন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরের সাংসদ এবং প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। অনুষ্ঠানের মঞ্চে সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে ধনুক হাতে তুলে নিয়ে তীর ছুড়ে রাবণ দহনের সূচনা করেন তিনি। সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভিড়ের মধ্যে দর্শকদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

রাবণ দহন উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, খড়্গপুরের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বছরের পর বছর ধরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আবেগ। ১০২ বছরের এই ধারাবাহিকতা সেই ঐতিহ্যেরই সাক্ষ্য বহন করছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রাবণ দহন দেখতে আসেন বহু মানুষ। উৎসবকে কেন্দ্র করে মিলনমেলায় পরিণত হয় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিন রাবণ দহনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পাঠ করা হয় হনুমান চালিশা। ধর্মীয় আবহে উৎসবের পরিবেশ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাবণ দহনের মুহূর্তকে কেন্দ্র করে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। পরিবার-পরিজন ও পরিচিতদের সঙ্গে বহু মানুষ এই উৎসবে শামিল হন।

অন্যদিকে, বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে গোটা অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করে পুলিশ প্রশাসন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকর্মীদের সতর্ক নজরদারি ছিল। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতেও অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার উপর নজর রাখা হয়।

সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যের ১০২তম বছরে খড়্গপুরের রাবণ দহন উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জনসমাগমের এক বড় উপলক্ষ হিসেবেও নজর কাড়ল। বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ, মন্ত্রীর হাতে রাবণ দহনের সূচনা এবং হনুমান চালিশা পাঠ—সব মিলিয়ে এদিনের অনুষ্ঠান ঘিরে খড়্গপুরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement