পিউ নন্দী, পুরুলিয়া: পাথরের বুকে ফুটে উঠেছে শিল্পের ছোঁয়া, পাহাড়ের গায়ে প্রাচীন গুহামন্দিরের আদল আর তারই অন্তঃস্থলে অধিষ্ঠিত দেবী দুর্গা। ঐতিহ্য ও শিল্পকলার অপূর্ব মেলবন্ধনে সেজে উঠেছে পুরুলিয়ার ভামুরিয়া বাথানেশ্বর দুর্গাপুজো কমিটির এবারের মেগা পুজো মণ্ডপ। ‘পাষাণে প্রাণ’—এই অভিনব ভাবনাকে কেন্দ্র করে তৈরি মণ্ডপের উদ্বোধন হতেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠল পুজো প্রাঙ্গণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টলিউড অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুন্ডুর উপস্থিতি উৎসবের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়।
‘প্রজাপতি ২’ ছবির অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের সদস্য গৌতম রায় এবং বিধায়িকা মামণি বাউরি। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে মণ্ডপ উদ্বোধনকে ঘিরে পুজো উদ্যোক্তা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল বাড়তি উৎসাহ।
এবারের মণ্ডপের মূল আকর্ষণ তার বিষয়ভাবনা ও নির্মাণশৈলী। পাথরের মধ্যে প্রাণের অস্তিত্বকে শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার প্রচেষ্টায় পাহাড়ি গুহামন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে গোটা মণ্ডপ। প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং পাথরের কারুকার্যকে একসঙ্গে তুলে ধরেছেন শিল্পীরা। মণ্ডপের প্রতিটি স্তরেই রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া ও শিল্পভাবনার বৈচিত্র্য।
মণ্ডপে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে ভগবান বজরংবলীর মূর্তি। তাঁর ডান দিকে রয়েছেন ভগবান শিব এবং বাঁ দিকে ভগবান গণেশ। এরপর পাহাড়ের উপরের দিকে এগোলে চোখে পড়ছে পাথরের কারুকার্যের আদলে তৈরি বিভিন্ন দেবদেবীর অবয়ব ও নান্দনিক শিল্পকর্ম। সবশেষে পাহাড়ের মাঝখানে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল গুহামন্দিরের আদল। সেই মন্দিরের অভ্যন্তরেই বিরাজ করছেন দেবী দুর্গা।
শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, মণ্ডপের প্রতিটি অংশ ঘুরে দেখার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা যেন প্রাচীন ভারতের মন্দিরশিল্প ও স্থাপত্যের এক কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করছেন। আলোকসজ্জা, পাথরের অনুকরণে নির্মাণ এবং পাহাড়ি পরিবেশের সমন্বয় এই মণ্ডপকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
প্রতি বছরই ভামুরিয়ার এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষের সমাগম হয়। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকেও বহু দর্শনার্থী এখানে আসেন বলে উদ্যোক্তাদের আশা। এবারও মণ্ডপ উদ্বোধনের পর থেকেই মানুষের ভিড় সেই প্রত্যাশারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ‘পাষাণে প্রাণ’ থিমে ভামুরিয়া বাথানেশ্বর দুর্গাপুজোর এই আয়োজন কেবল পুজো মণ্ডপ নয়, বরং পাথরের শিল্পকলা ও ভারতীয় ঐতিহ্যকে সামনে আনার এক বিশেষ উদ্যোগ। উৎসবের মরশুমে পুরুলিয়ার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে এই মেগা মণ্ডপ।