Saturday, October 31, 2026
আল্ট্রা লোকাল

পরিবেশ রক্ষায় '3R' ও জল সংরক্ষণের পাঠ,কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিনব সচেতনতা শিবির

Published by Newz4 Admin |
Sayani Sarkar Posted by Sayani Sarkar
- October 01, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
পরিবেশ রক্ষায় '3R' ও জল সংরক্ষণের পাঠ,কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিনব সচেতনতা শিবির

 

পূর্ব বর্ধমান: পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল বর্ধমানের একটি বিদ্যালয়। কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জল সংরক্ষণের উপর একটি বিশেষ আলোচনাসভা এবং হাতেকলমে প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষক অনিমেষ বর্মন দৈনন্দিন জীবনের বর্জ্যের ধরন এবং তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত

 আলোচনা করেন। শাক-সবজির খোসা বা খাবারের অবশিষ্টাংশের মতো জৈব বর্জ্য, প্লাস্টিক-কাঁচের মতো অজৈব বর্জ্য এবং রাসায়নিক বা ব্যাটারির মতো বিপজ্জনক বর্জ্যের পার্থক্য তিনি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলেন। অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি সমাধানের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ‘3R’ অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবহার কমানো (Reduce), পুনরায় ব্যবহার (Reuse) এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা (Recycle)-এর উপর জোর দেন।

এরপর শিক্ষিকা সুনীতা সাহা ব্যবহারিক প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের দেখান কীভাবে আলাদা রঙের ডাস্টবিন ব্যবহার করে সহজে বর্জ্য পৃথকীকরণ করা যায়। পচনশীল জৈব আবর্জনা থেকে সহজেই যে উৎকৃষ্ট মানের কম্পোস্ট সার তৈরি সম্ভব, তা তিনি তুলে ধরেন।

দিনের অপর পর্বে পরিবেশের অন্যতম প্রধান সম্পদ ‘জল সংরক্ষণ’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিক্ষক অনুপকুমার দত্ত সতর্ক করে বলেন, মাত্রাতিরিক্ত অপচয়ের ফলে ভূগর্ভস্থ পানযোগ্য জলের স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। সংকট এড়াতে তিনি বৃষ্টির জল ধরে রাখা, অকারণে জলের কল খোলা না রাখা, চাল-ডাল ধোয়া জল ফেলে না দিয়ে গাছে দেওয়া এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের পরামর্শ দেন।

বর্তমান জলসংকটের ভয়াবহতা বোঝাতে শিক্ষিকা সুশ্বেতা সাহা বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলির উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, তীব্র জলকষ্টের সেই ছবি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভূত্বক রক্ষা এবং জলের সুপরিকল্পিত ব্যবহার আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ভাষণে বিদ্যালয়ের রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, "বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল প্রশাসনের একার কাজ নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নাগরিক দায়িত্ব। আমরা সচেতন হলেই আমাদের বিদ্যালয়, গ্রাম ও সমাজ সুন্দর হয়ে উঠবে।" জল সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আবেগমথিত সুরে বার্তা দেন, "জলই জীবন। আজ যদি আমরা সচেতন হয়ে এক বালতি জল বাঁচাতে পারি, তবে কাল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক সমুদ্র জল পাবে।" অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা একযোগে পরিবেশ রক্ষা ও জল সংরক্ষণের শপথ গ্রহণ করেন।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement