দেবিকা দত্ত:নকশালবাড়ি: দীর্ঘদিনের বকেয়া আয়কর আদায়ে নকশালবাড়ির একটি রিসর্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত পদক্ষেপ করল আয়কর দফতর। মা সারদা রেসিডেন্সি রিসর্টের সম্পত্তিতে এ সংক্রান্ত নোটিস সাঁটানো হয়েছে। দফতর সূত্রে খবর, রাকেশ কুমার শ্রীবাস্তবের নামে পাঁচটি অর্থবর্ষ মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা আয়কর বকেয়া রয়েছে। সেই বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১-১২, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের বকেয়া কর আদায়ের জন্য এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর জমা না পড়ায় এবং সমন পাঠিয়েও বকেয়া আদায় সম্ভব না হওয়ায় সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। শিলিগুড়ির আয়কর দফতরের ট্যাক্স রিকভারি অফিসারের (টিআরও) কার্যালয় থেকে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দফতরের নোটিসে আয়কর আইন, ১৯৬১-এর দ্বিতীয় তফসিলের বিধানের উল্লেখ রয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। সম্পত্তির উপরে নতুন করে কোনও আর্থিক দায় সৃষ্টি করা বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনও ধরনের লেনদেনের উপরেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনায় একটি বিষয় ঘিরে স্পষ্টতা এখনও মেলেনি। নকশালবাড়ির মা সারদা রেসিডেন্সি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রাজেশ কুমার শ্রীবাস্তবের নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, রাকেশ কুমার শ্রীবাস্তবকে শিলিগুড়ির প্রধাননগরে অবস্থিত সারদা হোটেলের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজেশ ও রাকেশ কুমার শ্রীবাস্তব একই ব্যক্তি কি না, তাঁদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ক্রোকের নির্দেশে উল্লিখিত সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র কী, তা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তিদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে বকেয়া কর আদায়ের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর রয়েছে।