নিউজ ফোর বর্ধমান: অবশেষে মিললো দামোদর নদে তলিয়ে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের দেহ। অবশেষে সোমবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার জায়গা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাশপুরের কাছে স্থানীয় এক জেলের জালে উঠে আসে রিপমের দেহ।গলসি থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
সোমবার সকালে রিপমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। খবর পেয়ে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র। স্ত্রী-কে রিপমের বাড়িতে পাঠিয়ে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে আর্থিক সাহায্যও করেন তিনি।
প্রসঙ্গত,রবিবার দুপুরে গ্রামের বন্ধু সজল দাস, কার্তিক সেন, নিতাই দাস ও গৌরব রক্ষিতের সঙ্গে গলসীর শিল্যাঘাট এলাকায় দামোদর নদে স্নান করতে নামে বছর ঊনিশের রিপম।দামোদর নদে জল কম থাকায় হেঁটে দামোদর নদ পারাপারের চিন্তা ভাবনা করে তাঁরা।
রিপমের সাথে স্নান করতে যাওয়া বন্ধু গৌরব রক্ষিত জানায়,স্নান করতে নেমে হঠাৎই ঠিক হয় দামোদর নদ পারাপারের। বন্ধুদের মধ্যে রিপম এবং নিতাই শুধুমাত্র সাঁতার জানত। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া রিপম দাস সবার আগেই যাচ্ছিল,পিছনে ছিল চার বন্ধু।প্রথম দিকে কোমর সমান জল ছিল। হঠাৎই খাদে পড়ে পায়ের নীচে তল না পেয়ে গভীর জলে তলিয়ে যেতে থাকে পাঁচ বন্ধু। বাকি চারজন কোনোরকমে নিতাই-এর সহযোগিতায় তীরে ফিরে এলেও জলে তলিয়ে যায় রিপম। সেই কিছুটা আগে থাকায় তাকে আর ধরতে পারেনি বাকিরা।চোখের সামনেই তলিয়ে যায় সে।
শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।ঘটনাস্থলে আসে গলসী থানার পুলিশ।আসে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা।স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধারের জন্য জাল ফেলে জেলেরা।নিতাই জানায়, রিপম আমাদের থেকে অনেকটাই আগে ছিল। তাই বাকিদের ধরতে পারলেও তাকে আর ধরতে পারিনি। জলে তলিয়ে যাওয়ার সময় তার হাত একবার দেখতে পেয়েছিলাম তারপর থেকে আর দেখতে পাইনি। সম্ভবত খালে পড়ে জলে তলিয়ে যায় সে।