বাঁকুড়া, মহম্মদ শাহজাহান আনসারী: দুর্গাপুজোর ভিড়ে যাত্রী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তৎপর রেল পুলিশ। মহাষষ্ঠীর দিন বাঁকুড়া স্টেশনে কড়া নজরদারি। যাত্রীদের তল্লাশির পাশাপাশি ট্রেনের কামরায় তল্লাশি চালানো হয় স্নিফার ডগ নিয়ে। সেই সঙ্গে ড্রোন উড়িয়েও নজরদারি চালায় রেল পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে বলে রেল পুলিশের তরফে জানা যায়।
রেল পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বাঁকুড়া আরপিএফ পোস্ট, বাঁকুড়া জিআরপি এবং হেডকোয়ার্টার থেকে আসা কুইক রেসপন্স টিম যৌথ ভাবে এই তল্লাশি অভিযানে অংশ নেয়। স্টেশনের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে কিউআরটি টিমকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয় দুটি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। একটি বিস্ফোরক শনাক্তকরণের জন্য, অন্যটি মাদকদ্রব্য চিহ্নিত করতে। পুজোর সময় ট্রেনে মাদকদ্রব্যের বেআইনি পরিবহণ রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, মহিলাদের নিরাপত্তা এবং শিশুদের শনাক্তকরণ ও নজরদারির জন্যও বিশেষ দল কাজ করছে। জেলা ও কেন্দ্রীয় স্তরের সমন্বয়ে মাদকবিরোধী নজরদারিও চালানো হচ্ছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দলের সদস্যরাও বিভিন্ন জায়গায় নজর রাখছেন।
ওই আধিকারিকের বলেন, যাত্রী সুরক্ষাই রেল পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। পুজোর সময় এই তল্লাশি ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। যাত্রীরা যাতে নিশ্চিন্তে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
পাশাপাশি, যাত্রীদেরও সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছে রেল পুলিশ। ভিড়ের মধ্যে চলন্ত ট্রেনে ওঠা বা নামা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু নজরে এলে দ্রুত রেল পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখার পাশাপাশি বাঁকুড়া স্টেশনে আরপিএফ ও জিআরপির সহায়তা বুথও থাকছে। ট্রেন চলাচলের সময় যাত্রীদের সচেতন করতে প্রচারও চালানো হচ্ছে রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়।