বীণা নন্দী দাস, পশ্চিম মেদিনীপুর:-দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এক মানবিক ও অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিধায়ক ডঃ শংকর কুমার গুছাইত। বয়সজনিত অসুস্থতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে যাঁরা পুজোর চারটি দিন বাড়ির বাইরে বেরিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর বিধায়ক সেবা কার্যালয় থেকে এই পরিষেবা চালু করা হয়। পরিষেবাটির আনুষ্ঠানিক ভাবে সূচনা করেন মেদিনীপুরে। বিধায়ক ডঃ শংকর কুমার গুছাইতের মা গীতারানি গুছাইত।
দুর্গাপুজো আপামোর বাঙালির আবেগ, আনন্দ ও মিলনের একটা বড় উৎসব। এই সময়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আলোর রোশনাই, সুসজ্জিত মণ্ডপ এবং দেবী দুর্গার দর্শনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও দর্শনার্থীদের ঢল মন্ডপে মন্ডপে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এই উৎসবের আনন্দ সবার জীবনে সমানভাবে পৌঁছয় না। অনেক বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ প্রবীণ নাগরিক, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ব্যক্তি এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ মা-বাবা শুধুমাত্র শারীরিক অক্ষমতা কিংবা দেখাশোনার মানুষের অভাবে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই দিন কাটাতে বাধ্য হন। বিশেষত যাঁদের ছেলে-মেয়েরা কর্মসূত্রে বিদেশে কিংবা দূরবর্তী স্থানে বসবাস করেন, তাঁদের পক্ষে পুজোর সময় মা দুর্গার দর্শনে বেরিয়ে পড়া অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব হয়ে ওঠে।
এই সমস্ত ধরনের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাঁদের পুজোর আনন্দে শামিল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিধায়ক ডঃ শংকর কুমার গুছাইতের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্যোগটির মূল ভাবনা হলো, শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কারও উৎসবের আনন্দের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সমাজের প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা নিয়েই এই পরিষেবা।
মেদিনীপুর শহরের কর্নেল গোলায় বিধায়ক সেবা কার্যালয় থেকে চালু হওয়া এই বিশেষ পরিষেবাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে যাঁরা ইচ্ছা থাকলেও মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। উৎসবের আনন্দকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের মানবিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন অনেকে।
এই পরিষেবা প্রয়োজন মত সাধারণ মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যায়, সেই উদ্দেশ্য রেখে তিনটি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আজ চতুর্থীর পূর্ণলগ্ন থেকে এই পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনটি হেল্পলাইন নম্বরের নির্দিষ্ট নম্বরগুলি প্রকাশের জন্য উপলব্ধ তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।
সবশেষে বলা যায় দুর্গাপুজোর আনন্দকে শুধুমাত্র মণ্ডপে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাড়িতে থাকা প্রবীণ নাগরিক, যাদের ঠাকুর দেখতে নিয়ে যাবার মত কেউ নেই বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষ এবং অসহায় ব্যক্তিদের জীবনেও পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ মেদিনীপুরবাসীর কাছে অনন্য আশার বার্তা বহন করছে। পুজোর আনন্দ সবার—এই ভাবনাকে সামনে রেখে বিধায়ক ডঃ শংকর কুমার গুছাইতের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পরিষেবা মানবিকতার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।