Sunday, November 1, 2026
জেলা

সাইবার প্রতারকদের নয়া নিশানা জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক সুভাষ পাত্রের হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ

Published by Newz4 Admin |
সায়নী সরকার Posted by সায়নী সরকার
- October 27, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
সাইবার ক্রাইম থানার সামনে রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র

বর্ধমান:  রায়না বিধানসভার বিধায়কের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক। বিধায়ক সুভাষ পাত্রের নাম করে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে একাধিক ব্যক্তির কাছে কিউআর কোড পাঠিয়েছে কেউ বা কারা। ওই কোড দিয়ে নগদ টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে।

 প্রযুক্তির ব্যবহার তত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার প্রতারণার ঘটনাও। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আজ পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয় এলেও সামান্য অসাবধানতায় ডেকে আনছে বিপদ। অনেক সময় সতর্ক থাকলেও প্রতারণার নতুন নতুন পন্থা বের করছে প্রতারকরা। এর ফলে অনেক সময় না বুঝেই আমরা পড়ছি বিপদে। সাইবার অপরাধীদের নয়া শিকার এবার খোদ জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এবার রাজনৈতিক নেতার সোশ্যাল প্রোফাইল কবজা করে অর্থ হাতানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল পূর্ব বর্ধমানে।বর্ধমান সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত, একটি আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ ফোন কল দিয়ে। বিধায়কের দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে জানায় যে রাজধানী দিল্লি থেকে তাঁর নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি এসেছে। সেই চিঠিটি হস্তান্তরের নাম করে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয় তাঁকে। বিধায়ক যোগাযোগ করার মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর ব্যক্তিগত হ্যান্ডসেট ও হোয়াটসঅ্যাপের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের কবলে।মঙ্গলবার যখন বিধায়ক একটি দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই গোটা জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

হঠাৎ করেই একের পর এক দলীয় কর্মী, পরিচিত এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন আসতে শুরু করে তাঁর কাছে। প্রত্যেকেই জানতে চান, তাঁর কি খুব জরুরি ভিত্তিতে নগদ টাকার প্রয়োজন পড়েছে? খোঁজ নিয়ে বিধায়ক জানতে পারেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ থেকে পরিচিতদের কাছে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ২০ হাজার টাকা পাঠানোর আবেদন যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, টাকা পাঠানোর সুবিধার্থে সঙ্গে একটি করে কিউআর কোডও জুড়ে দিচ্ছে প্রতারকরা।

পরিস্থিতির আঁচ পেয়ে আর কালবিলম্ব করেননি রায়নার বিধায়ক। নির্ধারিত কর্মসূচি মাঝপথেই বাতিল করে সোজা বর্ধমান সাইবার ক্রাইম থানায় হাজির হন তিনি। লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সেখানে। এরই মধ্যে বিধায়কের বিপদের কথা ভেবে বিভ্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তি ওই কিউআর কোডে টাকা পাঠিয়েও দিয়েছিলেন। তবে সেই খবর আসা মাত্র সুভাষ পাত্র নিজে ওই ব্যক্তির সম্পূর্ণ টাকা মিটিয়ে দেন।

সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন বিধায়ক। সেই সঙ্গেই সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, মেসেজ পাঠিয়ে কারও কাছে অর্থ চাওয়া তাঁর নীতিবিরুদ্ধ, জরুরি প্রয়োজনে তিনি সর্বদা সরাসরি যোগাযোগ করে থাকেন। ফলে তাঁর নাম করে পাঠান কোনও ভীতিজনক বা প্ররোচনামূলক বার্তায় কেউ যেন গুরুত্ব না দেন, এবিষয়ে সতর্ক থাকার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement