Monday, November 2, 2026
জেলা

পুজোর আগেই নিরাপত্তার চাদরে বর্ধমান, রাতের শহরে নারী সুরক্ষায় মাঠে জেলা পুলিশের প্রমীলা বাহিনী

Published by Newz4 Admin |
সায়নী সরকার Posted by সায়নী সরকার
- October 09, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
পুজোর আগেই নিরাপত্তার চাদরে বর্ধমান, রাতের শহরে নারী সুরক্ষায় মাঠে জেলা পুলিশের প্রমীলা বাহিনী

নিউজ ফোর বর্ধমান: দুর্গাপুজো শুরু হতে এখনও বেশ কয়েকটা দিন বাকি। তবে উৎসবের ঘণ্টা বেজে গেছে অনেক আগেই। কেনাকাটার তাগিদে বিকেল গড়িয়ে রাত হতেই এখন শহরের বিপণি ও বাজারগুলিতে উপচে পড়ছে ভিড়। আর এই পুজোর প্রাক্কালে রাতের শহরে সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফেরা মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আগেভাগেই আঁটসাঁট ব্যবস্থা নিল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। উৎসব শুরুর আগেই পথে নামানো হয়েছে জেলা পুলিশের বিশেষ মহিলা টিমকে।

পুজোর মুখে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যাতে কোনও পকেটমারি, ছিনতাই কিংবা মহিলাদের উদ্দেশ্য করে কটূক্তি বা ইভটিজিংয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে এই বিশেষ প্রমীলা বাহিনী। বর্ধমান রেল স্টেশন চত্বর, কার্জন গেট, বি সি রোড, তিনকোণিয়া, বীরহাটা, উল্লাস মোড়, নবাবহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শপিং হাব, রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতের দোকানগুলির সামনে নিয়মিত পেট্রোলিং ও রুটিন নজরদারি চালাচ্ছে এই দল।

 

 

পুজোর ঠিক আগের এই সময়টিতে বহু মহিলা ও তরুণী পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত শপিং করেন। গণপরিবহণ ধরে বাড়ি ফেরার সময়ে তাঁরা যাতে কোনও ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তা নিশ্চিত করাই এই টিমের মূল লক্ষ্য। সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে পড়লেই দাঁড় করিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। শহরের নির্জন এলাকা, অন্ধকারাচ্ছন্ন বাসস্টপ ও গলিমুখগুলিতে রাখা হচ্ছে বাড়তি নজর।

 

জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, “পুজো শুরু হওয়ার পর তো কড়া নিরাপত্তা থাকবেই, তবে পুজোর আগের এই প্রস্তুতি ও কেনাকাটার সময়টিতেও নিরাপত্তা সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের বেলা কাজ বা কেনাকাটা সেরে বাড়ি ফেরার পথে মহিলারা যাতে নিজেদের সম্পূর্ণ সুরক্ষিত মনে করেন, সেজন্যই মহিলা পুলিশের এই বিশেষ টিমকে আগেভাগে সক্রিয় করা হয়েছে। মোবাইল পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জনবহুল পয়েন্টে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন মহিলা কর্মীরা। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে এই টিম সর্বদা প্রস্তুত।”

পুলিশের এই আগাম তৎপরতায় স্বস্তিতে শহরবাসী। রাতে কেনাকাটা সেরে ফেরা এক তরুণী বলেন, “পুজোর আগের বাজার করতে গিয়ে প্রায়ই রাত হয়ে যায়। বাসস্ট্যান্ড বা অটো স্ট্যান্ডের কাছে মহিলা পুলিশ কর্মীদের টহল দিতে দেখলে আলাদা ভরসা পাওয়া যায়। নির্ভয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে।”

উৎসব শুরুর আগেই পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের এই আগাম প্রস্তুতি ও প্রমীলা বাহিনীর সক্রিয় নজরদারি সাধারণ মানুষের মধ্যে সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পুজোর প্রাক-মুহূর্ত থেকে শুরু করে উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত এই কড়া নজরদারি একইভাবে বজায় থাকবে।

 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement