দেবিকা দত্ত:শিলিগুড়ি : বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে কোচবিহার হয়ে শিলিগুড়ির পথে আসছিল বিপুল সোনার চালান। বিশেষ কাপড়ের বেল্টে লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা। উদ্ধার ৮.৩৫২ কেজি ওজনের ৭২টি সোনার বিস্কুট।
দুর্গাপুজোর আগে সোনা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)-এর। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে পাচার করে আনা বিপুল পরিমাণ বিদেশি সোনা কোচবিহার হয়ে শিলিগুড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার আগেই তা বাজেয়াপ্ত করল ডিআরআই। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে মোট ৮ কেজি ৩৫২ গ্রাম ওজনের ৭২টি সোনার বিস্কুট। ডিআরআই সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৬০ টাকা।
এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতরা হল রসিদুল শেখ (৪২), মনোয়ার রহমান (৪০), মাবিদুল শেখ (৩৯) এবং মিজানুর রহমান (৩২)। চারজনেরই বাড়ি কোচবিহারের দিনহাটায় বলে জানা গিয়েছে।
ডিআরআই সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে পাচার করে আনা ওই সোনার চালান কোচবিহার হয়ে শিলিগুড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে—এমন গোপন তথ্য পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে কোচবিহারের নিউ টাউন সংলগ্ন আসরাম রোড এলাকায় শুরু হয় নজরদারি।
সেই সময় দিনহাটার দিক থেকে দুটি মোটরবাইকে করে আসা চারজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর শুরু হয় তল্লাশি। আর তাতেই সামনে আসে পাচারের আসল রহস্য।
তল্লাশির সময় রসিদুল শেখের কোমরে বিশেষভাবে তৈরি কাপড়ের বেল্টের ভিতর থেকে ৪৩টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার করা হয়। একইভাবে মাবিদুল শেখের কাছ থেকে উদ্ধার হয় আরও ২৯টি বিস্কুট। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া ৭২টি বিস্কুটের ওজন ৮.৩৫২ কেজি। সোনার বিস্কুটগুলিতে বিদেশি মার্কিংও পাওয়া গিয়েছে।
ডিআরআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওই সোনা ভারতে পাচার করে আনা হয়েছিল। পাচারের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরবাইকও বাজেয়াপ্ত করেছে ডিআরআই।
চারজনের বিরুদ্ধে Customs Act, 1962-এর 104 ধারায় মামলা করা হয়েছে। শুধু বাহক নয়, এই বিপুল সোনা পাচারের পিছনে থাকা মূল চক্রের হদিশ পেতেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার চার অভিযুক্তকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। ডিআরআইয়ের আইনজীবী রতন বণিক জানান, এটি এখনও পর্যন্ত অন্যতম বড় সোনা উদ্ধারের ঘটনা। আদালতে চারজনের জামিনের আবেদন করা হলেও তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। চার অভিযুক্তকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ অক্টোবর।
পুজোর মুখে উত্তরবঙ্গের পথে এত বিপুল পরিমাণ সোনা পাচারের ঘটনায় এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপে—বাংলাদেশ থেকে সোনা কীভাবে ঢুকল, কার হাতে যাওয়ার কথা ছিল এবং এই চক্রের নেপথ্যে আরও কারা রয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ডিআরআই।