Saturday, October 31, 2026
আন্তর্জাতিক

দীপাবলির আগে INDIA জোটের সভা নিয়ে আপত্তি, সোনিয়া গান্ধীর দ্বারস্থ দিল্লির ব্যবসায়ীরা!

Published by টুম্পা ব্যাণার্জী |
পিউ নন্দী Posted by পিউ নন্দী
- October 30, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
১২ হাজার কোটির ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা!

নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে এবার সরাসরি কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানালেন দিল্লির ব্যবসায়ীরা। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের প্রস্তাবিত মহাসমাবেশ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। উৎসবের মরশুমে এই বিশাল জনসমাবেশ হলে রাজধানীর ব্যবসা-বাণিজ্যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ী মহলের। সেই কারণেই সভার দিন পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)।

ব্যবসায়ী সংগঠনের আশঙ্কা, এই সমাবেশে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে। তাঁদের সঙ্গে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারে ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন। এর জেরে মধ্য ও পুরনো দিল্লির অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারে তীব্র যানজট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎসবের আগে কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হলে ব্যবসায়ীদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

CTI-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের বক্তব্য, রাজনৈতিক সভা আয়োজনের বিরোধিতা করছেন না তাঁরা। কিন্তু দীপাবলির আগে এই সময়টা ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৬ নভেম্বর ধনতেরাস এবং ৮ নভেম্বর দীপাবলি। ফলে ১ নভেম্বরের সমাবেশের কারণে বাজারগুলিতে যান চলাচল ও ক্রেতাদের আনাগোনা ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বহু ব্যবসায়ী ও তাঁদের উপর নির্ভরশীল কর্মীরা।

সংগঠনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রামলীলা ময়দান থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা ২০টি বড় বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। চাঁদনি চক, সদর বাজার, কনট প্লেস, খারি বাওলি, করোলবাগ, চাওড়ি বাজার এবং ভাগীরথ প্যালেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র রয়েছে এই তালিকায়। এত বড় জনসমাবেশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক গাড়ি ও বাসের পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে CTI। ব্যবসায়ীদের দাবি, রামলীলা ময়দানে ২০০টি বড় বাস রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে দুটি বিকল্প প্রস্তাব রেখেছে ব্যবসায়ী সংগঠন। প্রথমত, ১ নভেম্বরের সভা পিছিয়ে ১০ নভেম্বরের পর আয়োজন করা হোক। দ্বিতীয়ত, নির্ধারিত দিনেই সভা করতে হলে রামলীলা ময়দানের পরিবর্তে বুরারি ময়দান বেছে নেওয়া হোক। তাঁদের দাবি, বুরারি ময়দানে প্রায় ১৫ হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘ভোট চুরি’ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই INDIA জোটের এই মহাসমাবেশের পরিকল্পনা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধী শিবির। এর আগে রাহুল গান্ধীর কাছেও সভার দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল CTI। এবার সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপ চেয়ে নতুন করে চিঠি পাঠাল সংগঠন। রাজনৈতিক প্রতিবাদের কর্মসূচি এবং উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে কংগ্রেস নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement