শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর আবহে নারীশক্তির বন্দনা এবং স্বচ্ছতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল শিলিগুড়ির আয়কর দপ্তর। মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ‘শক্তি বন্দনম—স্বচ্ছতা এবং শক্তি সমারোহ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা দিবস পালনের পাশাপাশি সম্মান জানানো হল নারীশক্তিকে। অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলেন শিলিগুড়ির আয়কর দপ্তরের প্রিন্সিপাল কমিশনার রাজীব কুমার।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় নারী ক্ষমতায়নের বিষয়টি। দপ্তরের একাধিক মহিলা কর্মী নারীশক্তির গুরুত্ব, সমাজে মহিলাদের ভূমিকা এবং তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের কথায় উঠে আসে দেবী দুর্গার শক্তি, সাহস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আদর্শ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজীব কুমার দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিকে দেশজুড়ে প্রায় দশ দিন ধরে মহাসমারোহে দেবী দুর্গার আরাধনা করা হয়, অন্যদিকে সেই দেশেই মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং লিঙ্গবৈষম্যের ঘটনা উদ্বেগজনক। এই বৈপরীত্য দূর করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের কন্যাসন্তানদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা ও আর্থিক স্বাধীনতাই মহিলাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বও ছিল উল্লেখযোগ্য। দেবী দুর্গা ও মা কালীর মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করে কথক নৃত্য পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি পাঠ করা হয় ‘মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্রম’। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নারীশক্তি, সাহস এবং অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা তুলে ধরা হয়।
স্বচ্ছতা দিবস উপলক্ষে দপ্তরের সাফাইকর্মীদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। দপ্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মানসূচক স্মারক। স্বচ্ছতার লক্ষ্যে তাঁদের নিরলস পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে আধিকারিকেরা জানান, সাফাইকর্মীদের অবদান ছাড়া এই উদ্যোগ সফল করা সম্ভব নয়।
এদিন দপ্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নত করার লক্ষ্যে নতুন চিকিৎসাকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন রাজীব কুমার। পাশাপাশি মণিপাল হাসপাতাল, প্রধাননগরের সহযোগিতায় দিনভর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। দপ্তরের কর্মী ও সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
নারী ক্ষমতায়ন, স্বচ্ছতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা—এই চারটি বিষয়কে একসূত্রে বেঁধে এদিনের অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য পায়।