সায়নী সরকার: বর্ধমান: একই দিনে শরীরচর্চার পাঠ এবং বিজ্ঞানের হাতেকলমে শিক্ষা দ্বিমুখী উদ্যোগে মুখরিত হলো কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়। 'সেবা সংকল্প অভিযান' এবং চলতি 'বন্যপ্রাণী সপ্তাহ' উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে আয়োজিত হলো একগুচ্ছ সচেতনতামূলক ও শিক্ষণীয় কর্মসূচি।
দিনের শুরুতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ফিট ইন্ডিয়া’ ভাবনায় শরীরচর্চার এক বিশেষ শিবিরের সূচনা হয়। শিক্ষক সঞ্জীব নন্দীর উদ্যোগে পড়ুয়াদের মাঠে সারিবদ্ধ করে কাঠের ডাম্বেলের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের কসরত শেখানো হয়। দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ থাকার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি পড়ুয়াদের নিয়ে আয়োজিত হয় দৌড় প্রতিযোগিতা ও রোমাঞ্চকর কাবাডি ম্যাচ। এ বিষয়ে শিক্ষক অনিমেষ বর্মন বলেন, “শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতা বজায় রাখা একটি ধারাবাহিক অভ্যাস। ছোট থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে এই সচেতনতা গড়ে তুলতে আমাদের বিদ্যালয় সর্বদা সচেষ্ট।”
দিনের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় প্রকৃতির পাঠ। বন্যপ্রাণী সপ্তাহ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের একদল ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষকরা উপস্থিত হন বর্ধমান সায়েন্স সেন্টারে। সেখানে পরিবেশবিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভয়াবহতা ও পরিবেশের বিপদ’ শীর্ষক একটি তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই আয়োজিত হয় পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির পড়ুয়ারা সাফল্যের সঙ্গে উত্তর দিয়ে পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়। কুইজে বিজয়ী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অয়নাংশুর কথায়, "প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে।" সেমিনার পর্ব শেষে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয় রমনার বাগানে। সেখানে সায়েন্স সেন্টারের আধিকারিকরা পড়ুয়াদের ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পশুপাখি চেনান। এই আয়োজন প্রসঙ্গে শিক্ষক সামিম মণ্ডল জানান, ছোটদের জন্য এই ধরণের শিক্ষামূলক ভ্রমণ পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ।
বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন, “আমাদের ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত সায়েন্স সেন্টারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখে। বন্যপ্রাণী সপ্তাহে গৃহীত এই সরকারি উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য পূরণে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আমরা একে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানাই।”
দিনভর চলা এই পুরো অনুষ্ঠানের বিবরণী লিপিবদ্ধ করার দায়িত্বে ছিলেন দীপ্ত সুন্দর বাবু। পড়াশোনার পাশাপাশি শরীরচর্চা ও পরিবেশ পাঠের এমন মেলবন্ধন পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।