অনন্যা দে, আলিপুরদুয়ার, ২৩ অক্টোবর: দশমীর পর দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন হলেও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে উমার আরাধনা থেমে থাকে না। দেবী দুর্গা ভাণ্ডানী রূপে পূজিত হন চাষি পরিবারগুলিতে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলায় এই পুজোর প্রচলন রয়েছে। তিস্তা ও তোর্সা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই লোকাচার।
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজে ভাণ্ডানী দেবী উমার এক বিশেষ রূপ হিসেবে পরিচিত। অনেকেই তাঁকে ‘বনদুর্গা’ বলেও অভিহিত করেন। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, দশমীর পর শ্বশুরবাড়ি কৈলাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও ক্লান্তি দূর করতে এক চাষির বাড়িতে ভাণ্ডানী রূপে কয়েক দিন বিশ্রাম নেন দেবী। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই পুজোর ঐতিহ্য।
মূলত কৃষিজীবী পরিবারগুলির কাছে ভাণ্ডানী পুজোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। একাদশী তিথি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দিনে দেবীর আরাধনা করে শস্যের সুরক্ষা, ভালো ফসল, পরিবারের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন ভক্তরা। কোথাও একাদশীর পর তিন দিন ধরে পুজো হয়, আবার কোথাও লক্ষ্মীপূর্ণিমাকে কেন্দ্র করেও দেবীর আরাধনা করা হয়।
পুজোর রীতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। দশমীর রাতে দুধ, দই, চিনি ও বাতাসা দিয়ে দেবীর নৈবেদ্য সাজানো হয়। পরদিন একাদশীর ভোরে শুরু হয় পুজো। কোনও কোনও এলাকায় চার দিন ধরে চলে এই উৎসব। পুজোকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের ভিড় জমে।
দুর্গাপুজোর বিদায়বেলায় যখন দশমীর বিষাদ মন ভারী করে তোলে, তখন ভাণ্ডানী পুজো ঘিরে নতুন করে উৎসবে মেতে ওঠেন উত্তরবঙ্গের বহু চাষি পরিবার। ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি এই পুজো আজও রাজবংশী সমাজের লোকসংস্কৃতি, কৃষিজীবন ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে।