অনন্যা দে, আলিপুরদুয়ার, ২২ অক্টোবর: ফসলের জমি, সুপারি বাগান, বাঁশবাগানের পর এবার হাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হল কবরস্থানও। মৃত্যুর পরেও যেন শান্তি নেই! বন্য হাতির এমন তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার মহাকালগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ছিপড়া এলাকায়। হাতির হানায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক রবিনসন বসুমাতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছিপড়া ফরেস্ট থেকে কয়েকটি হাতির দল মহাকালগুড়ি গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। হাতির হানায় তছনছ হয়ে যায় রবিনসন বসুমাতার সুপারি বাগান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর দাদু-দিদার কবরস্থানও। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাতির হানা এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গল থেকে তিন-চারটি দলে হাতি গ্রামে ঢুকে পড়ছে। নষ্ট হচ্ছে ফসল, সুপারি ও বাঁশবাগান। পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে বাড়িঘর ও নিজেদের প্রাণের নিরাপত্তা নিয়েও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।খবর পেয়ে সাউথ রায়ডাক রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশায় বুক বাঁধছেন ছিপড়াবাসী। কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাও গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক ফেন্সিং বসানোর কাজের উদ্বোধন করেছেন। ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলে হাতির হানা অনেকটাই কমবে বলে আশা স্থানীয়দের। এখন দ্রুত কাজ শেষ হওয়ার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।