Saturday, October 31, 2026
জেলা

শিলিগুড়িতে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, পণ নির্যাতনের অভিযোগে কাঠগড়ায় স্বামী-শ্বশুরবাড়ি

Published by Newz4 Admin |
দেবিকা দত্ত Posted by দেবিকা দত্ত
- October 30, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
মৃত গৃহবধূ

শিলিগুড়ি:গৃহবধূর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে চাঞ্চল্য। মৃতার নাম প্রিয়া সাহ। তাঁর মৃত্যুর পিছনে পণকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাপের বাড়ির পরিবার। মৃতার স্বামী অনিল কুমার সাহ এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা ও গয়না চাওয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়ে এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

মৃতার পরিবারের দাবি, ২০১৬ সালে বিহারের মুজফ্ফরপুরের বাসিন্দা অনিলের সঙ্গে প্রিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। বাপের বাড়ির সদস্যদের দাবি, পণের দাবিতে প্রিয়াকে চাপ দেওয়া হত। পাশাপাশি, তাঁর কাছে বার বার টাকা ও গয়না চাওয়া হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রিয়ার আট বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়ার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই শিলিগুড়িতে পৌঁছন তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, মৃতার বাড়িতে পৌঁছেও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এমনকি প্রিয়ার আট বছরের ছেলের সঙ্গেও তাঁদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে বলেও জানা গিয়েছে।

এর পরেই প্রিয়ার মৃত্যুর কারণ জানতে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এনজেপি থানায় যান তাঁর বাপের বাড়ির সদস্যরা। স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে প্রিয়ার মৃত্যু কী ভাবে হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্রে জানা গিয়েছে।

এক গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু, তার সঙ্গে পণ নির্যাতনের অভিযোগ—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের সত্যতা এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement