পিউ নন্দী, পুরুলিয়া: গরু চুরির জন্য ব্যবহার করা হত বিলাসবহুল চারচাকা গাড়ি। গাড়ির পিছনের আসন খুলে তৈরি করা হত গরু বহনের বিশেষ ব্যবস্থা। এরপর সুযোগ বুঝে রাস্তা কিংবা বাড়ি থেকে গরু চুরি করে সীমান্ত পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডে পাচার করত দুষ্কৃতীরা। পুরুলিয়া জেলার একাধিক থানা এলাকায় সক্রিয় এমনই একটি আন্তঃরাজ্য পাচার চক্রের হদিস পেল জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া পুলিশ লাইনে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযানের কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার কুমার সন্নি রাজ। তিনি জানান, গত এক মাস ধরে বলরামপুর, বরাবাজার, ঝালদা, আড়শা ও কাশিপুর এলাকায় বিশেষ কৌশলে গরু চুরির ঘটনা ঘটছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ মোট পাঁচটি মামলা রুজু করে।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, চুরির কাজে স্করপিও, বোলেরো ও ইনোভার মতো গাড়ি ব্যবহার করা হত। গাড়ি গুলির পিছনের সিট খুলে সেখানে গরু তোলা হত। এরপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে পালিয়ে যেত অভিযুক্তরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুরুলিয়ার স্থানীয় তথ্যদাতা মহম্মদ আনোয়ার এবং ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা-খরসোয়া জেলার কপালি এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ কবীর-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের অধিকাংশই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।
অভিযানে চারটি ইনোভা, একটি স্করপিও ও একটি বোলেরো গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গাড়ি গুলির মধ্যে কয়েকটিতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল, আবার কয়েকটিতে নম্বর প্লেট ছিল না বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু গরুও।
এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, চুরি করা গরু কোথায় কোথায় পাচার করা হত এবং এর পিছনে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক কাজ করছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।