মহম্মদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া: সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরিয়ে না নিলে সরাসরি 'বুলডোজার' দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা। শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মাচানতলায় ফুটপাতবাসীদের উচ্ছেদ প্রসঙ্গে বিধায়কের এই মন্তব্যকে ঘিরে বাঁকুড়া জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। হঠাৎ করে উচ্ছেদের কথা বলা হলে তাঁরা সপরিবারে কোথায় যাবেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
স্থানীয় ও পৌরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া শহরের মাচানতলা বাজারের পিছনে সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্থায়ী বস্তি গড়ে উঠেছে। সেখানে প্রায় ১২ থেকে ১৩টি ঝুপড়ি রয়েছে। এই এলাকায় যানজট একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফুটপাত হকারদের কারণে তৈরি হওয়া এই যানজট মোকাবিলায় মাচানতলার ওই ফাঁকা জায়গায় টিনের শেড দিয়ে একটি অস্থায়ী বাজার তৈরি করছে বাঁকুড়া পৌরসভা। রাস্তা ও ফুটপাতে ব্যবসা করা হকারদের সেখানে পুনর্বাসন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। কিন্তু ওই জমিতে থাকা ঝুপড়িগুলি না সরায় থমকে রয়েছে কাজ।
এই বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার দাবি, আগের পৌর বোর্ডের আমলে ওই ঝুপড়িবাসী পরিবারগুলির কেউ কেউ সরকারি সাহায্য পেয়েছেন, এমনকি কয়েকজন ঘরও পেয়েছেন। তার পরেও তাঁরা কেন সরকারি জমি আঁকড়ে পড়ে আছেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, “এ বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমিও বারবার বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। প্রথম দফায় আমরা শান্তভাবে অনুরোধ করছি। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে যোগীরাজ্যের মতো বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে প্রশাসন।”
বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে যেভাবে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বুলডোজার চালানো হয়, এবার সেই হিংসাত্মক রাজনীতি এ রাজ্যেও আমদানী করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্বের সাফ কথা, উচ্ছেদের আগে বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে পৌরসভাকে। যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে এলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
এদিকে, আতঙ্কে দিন কাটছে বস্তির বাসিন্দাদের। তাঁদের দাবি, তাঁরা কয়েক দশক ধরে ওই জায়গায় রয়েছেন। প্রশাসনের কোনো উন্নয়নমূলক কাজে তাঁরা বাধা দিতে চান না, তবে মাথার গোঁজার বিকল্প ঠাঁই না দিয়ে হঠাৎ এভাবে উচ্ছেদ করা হলে তাঁরা পথে বসবেন। উচ্ছেদের আগে প্রশাসনের কাছে বিকল্প বাসস্থানের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।