মহম্মদ শাহজাহান আনসারী, বাঁকুড়া: সামাজিক বঞ্চনার ইতিহাসকে ঐতিহ্যে রূপান্তর করে বাঁকুড়া নতুনচটির রুইদাস সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মী পূজো এবার ১৮৪ তম বর্ষে পদার্পণ করল। রুইদাস গোষ্ঠীর নিজস্ব পরিচালনায় ও শতাব্দী প্রাচীন পরম্পরা মেনে আজও এই পুজোয় মেতে ওঠেন আপামোর এলাকবাসী
পূজো কমিটির প্রবীণ সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, এই আরাধনার সূচনা হয়েছিল এক সামাজিক প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। পুরাতন কালে রুইদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষকে সমাজের মূল ধারার দুর্গাপূজোয় অংশ নিতে দেওয়া হতো না। তৎকালীন উচ্চবর্ণের সেই সামাজিক বঞ্চনা ও অধিকার কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই রুইদাস সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষেরা দুর্গাপূজো থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
দুর্গাপূজোর বিকল্প হিসেবে এবং নিজেদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার্থে তাঁরা শুরু করেন ধনদেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা। সেই প্রাচীন কাল থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব আজ ১৮৪ বছর ধরে রুইদাস গোষ্ঠীর নিজস্ব নিষ্ঠা, ভক্তি ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে এক অনন্য লোক-উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আজও এই পূজো সম্পূর্ণভাবে রুইদাস সম্প্রদায়ের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে কালের নিয়মে তা আজ বাঁকুড়া জেলার অন্যতম এক ঐতিহাসিক ও গ্রামীণ উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও লক্ষ্মী পূজোকে কেন্দ্র করে নতুনচটি এলাকায় তৈরি হয়েছে এক গভীর ভক্তিমূলক ও উৎসবমুখর আবহ