সায়নী সরকার: বীরভূম : শুক্ল চতুর্দশীর পুণ্যলগ্নে মা তারার বাৎসরিক আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নামল বীরভূমের অন্যতম প্রধান শক্তিপীঠ তারাপীঠে। সকাল থেকেই গোটা মন্দির চত্বরজুড়ে উৎসবের মেজাজ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্তের পুজো দেওয়ার লম্বা লাইন চোখে পড়ছে ভোর থেকেই।
পৌরাণিক ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, বহু বছর আগে ঠিক এই তিথিতেই বিশিষ্ট বণিক জয়দত্ত সওদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়ে মা তারাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় মাহাত্ম্যকে স্মরণে রেখেই প্রতি বছর এই তিথিতে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রাচীন প্রথা মেনে এ দিন ভোর রাত তিনটে নাগাদ গর্ভগৃহ থেকে দেবীমূর্তিকে বাইরে নিয়ে এসে বিশ্রাম মঞ্চে স্থাপন করা হয়।
সারা দিন ধরে সেখানে মায়ের বিশেষ পুজো, অর্ঘ্য নিবেদন এবং ভক্তদের উন্মুক্ত দর্শনের ব্যবস্থা থাকে। দিনভর ভক্তদের আরাধনার পর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সন্ধ্যারতি। এরপর নিয়ম মেনে মাকে পুনরায় মূল গর্ভগৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দেবীকে অধিষ্ঠিত করা হয় অনন্য ‘লক্ষ্মীরূপ’-এ। এই বিশেষ রূপে মাকে দর্শন করতে ভিড় জমান বহু মানুষ। রাতে শাস্ত্রীয় আচার মেনে মায়ের মহাভোগ নিবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় ভক্তদের অন্নভোগ গ্রহণের পর্ব।
আবির্ভাব তিথির এই বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দেওয়ার সুবিধা করে দিতে তৎপর রয়েছে মন্দির কমিটি। একই সঙ্গে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে জেলা প্রশাসন।