হুগলি : বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে অল্পের জন্য রেহাই পেলেন আপ দুন এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। শনিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ ট্রেনটি যখন রিষড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢুকছিল, তখনই একটি সাধারণ কামরার নিচ থেকে বের হতে থাকে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের ফুলকি। মুহূর্তে স্টেশন চত্বরে শোরগোল পড়ে যায় এবং প্রাণভয়ে ট্রেন ছেড়ে প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন যাত্রীরা।
রেল পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ দুন১৩০০৯ আপ দুন এক্সপ্রেস রিষড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের মুখে চালকের নজরে আসে ট্রেনের সামনের দিকে থাকা সাধারণ কামরার (জেনারেল কোচ) নিচে ব্রেক শু-এর কাছে আগুন জ্বলছে। বিপদ আঁচ করে তিনি কালবিলম্ব না করে স্টেশনেই ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে কামরার নিচ থেকে বের হওয়া ঘন ধোঁয়ায় প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন চত্বর ঢেকে যায়। আগুন লাগার খবর চাউর হতেই যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় এবং প্রাণভয়ে সকলে কামরা ছেড়ে প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মী ও ট্রেনের কর্মীরা দ্রুত ট্রেনে ও স্টেশনে মজুত থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর কাজে হাত দেন। খবর পাঠানো হয় স্থানীয় রিষড়া ফায়ার ব্রিগেডকেও। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অবশ্য রেলকর্মীরা নিজস্ব তৎপরতায় আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলেন। যাবতীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সেরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর ট্রেনটিকে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়।
এই বিষয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, মূলত ‘ব্রেক বাইন্ডিং’-এর সমস্যার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছিল। ব্রেক প্যাডের সঙ্গে ট্রেনের চাকার তীব্র ঘর্ষণের ফলেই ওই স্ফুলিঙ্গ ও ধোঁয়া তৈরি হয়েছিল। তবে রেলকর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনায় কোনও হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি বলেই রেলের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে।