Saturday, October 31, 2026
জেলা

প্রহ্লাদের এনকাউন্টার না করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারত, আক্ষেপ তার বাবার

Published by Newz4 Admin |
সুমন সাহা Posted by সুমন সাহা
- October 28, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
এনকাউন্টারে মৃত প্রহ্লাদের বাবা

বারাসাত,উত্তর ২৪পরগনা:বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর ছেলের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ির পথে রামপ্রসাদ দাস, বললেন, “যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারত, এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না"।

গাইঘাটা কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রহ্লাদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মঙ্গলবার রাতে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রহ্লাদের নিথর দেহ। সেই সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা রামপ্রসাদ দাস। ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে শোক সামলাতে পারছিলেন না তিনি। শেষবারের মত ছেলের মৃতদেহে মালা পরিয়ে শববাহী গাড়িতে তুলে দেন বাবা। এরপর ছেলের দেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা।

ছেলের মৃত্যুর পর বাবার কণ্ঠে তখন শুধুই অসহায়তা আর গভীর শোক। একদিকে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের কথা স্বীকার করছেন তিনি, অন্যদিকে ছেলের এমন পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর কথায়, আমার কলজেটা ফেটে যাচ্ছে। জানি, আমার ছেলে মারাত্মক অন্যায় করেছে, যার মাফ হয় না। তারপরেও এইভাবে নৃশংস হত্যা না করে অফিসাররা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারতেন। এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। আমাকে ছেড়ে দিন, আমি আর বলতে পারছি না।

বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ছেলের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে বাবার এই প্রতিক্রিয়ায় ফুটে ওঠে এক অসহায় পিতার গভীর যন্ত্রণা। যে ছেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ, তার পরিণতি নিয়ে কোনও সাফাই দিতে চাননি বাবা রামপ্রসাদ দাস। কিন্তু ছেলের মৃত্যু যে তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছে, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।

চোখের জল শুকিয়ে গেলেও মনের যন্ত্রণা যেন কিছুতেই কমছে না। কীভাবে এই শোক সামলাবেন, কীভাবেই বা মেনে নেবেন ছেলের এমন পরিণতি তার কোনও উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। বারবার কথার মাঝেই থেমে যাচ্ছিলেন রামপ্রসাদ। শেষ পর্যন্ত আর কথা বলতে পারেননি। 

 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement