শিলিগুড়ি: গবাদি পশু চুরির সন্দেহে জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় এবার শুরু হল ফরেনসিক তদন্ত। সোমবার মাটিগাড়া থানার তারাবাড়ি এবং বাগডোগরা থানার ধিমাল এলাকায় পৌঁছয় জলপাইগুড়ি আরএফএসএলের ফরেনসিক দল। দুই ঘটনাস্থল মিলিয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তদন্ত চালান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা, তথ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার ভিত্তিতেই তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ভোরে গবাদি পশু চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে মাটিগাড়ার তারাবাড়ি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দুটি সন্দেহভাজন গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজন পালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের ধাওয়া করে ধিমাল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে মাটিগাড়া ও বাগডোগরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গণপিটুনিতে চোপড়ার বাসিন্দা শাহেদ আখতারের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হরিয়ানার বাসিন্দা সাদ মোহাম্মদকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
ঘটনায় আহত আমির, আরিফ খান এবং আক্রম খানকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসা করানো হয়। তদন্তে নেমে তাঁদের গবাদি পশু চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে, স্থানীয়দের হাত থেকে বাঁচতে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন সেনা এলাকার দিকে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। সেনা জওয়ানদের নজরে পড়ার পর চারজনকে আটক করা হয়। পরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বাগডোগরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা করে পুলিশ।
সব মিলিয়ে গবাদি পশু চুরির অভিযোগে রাকিব মোহাম্মদ, নূর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ আনরুল, মোহাম্মদ আজাদ, আমির, আরিফ খান এবং আক্রম খান—এই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে উত্তর দিনাজপুর, বিহার এবং হরিয়ানার বাসিন্দা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার সাত অভিযুক্তকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিকে, গণপিটুনির ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ফরেনসিক দলের সংগৃহীত নমুনা ও তথ্য এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে আসার পর ঘটনাস্থলের তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য প্রমাণ মিলিয়ে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। একইসঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনিতে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তিকেই রেয়াত করা হবে না।