বীণা নন্দী দাস: পশ্চিম মেদিনীপুর : অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর জেলায় ডেঙ্গুর প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে জানালেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক।
পূজার মুখে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বর্তমানে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই জানান জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক ডঃ সৌম্য শঙ্কর সারঙ্গি। অন্যান্য বছরে তুলনায় খুবই কম এবছর। অন্যান্য বছর এই সময় প্রায় সাড়ে তিনশোর উপরে থাকতো ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিন্তু এবছর প্রায় ১৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় যা কেস আছে তা গ্রামাঞ্চলে বেশি এবং শহরে কম রয়েছে। এটা একটা ভালো দিক এবং পৌরসভার মধ্যে মেদিনীপুর পৌরসভার পাঁচটা আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে। এছাড়াও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এবং পৌরসভার স্তরে ভি আর পি ভিসিট টিম আছে ডেঙ্গু কন্ট্রোলের জন্য তারা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে আবর্জনা পরিষ্কার করা নর্দমা পরিষ্কার করা। তার সাথে সাথে অ্যান্টি লার্ভার স্প্রে এবং গাপ্পি মাছ ইত্যাদি সমস্ত যে মশা দূর করার যে পদ্ধতি রয়েছে সেটা যেমন চলছে এর পাশাপাশি যাদের ডেঙ্গু উপসর্গ দেখা যাবে যেমন জ্বর, চোখের তলায় ব্যথা, গাঁঠে ব্যথা, গায়ে র্যাশ, তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে এবং চিকিৎসাও সরকারি হাসপাতালে করানো হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়নি। সমস্ত নার্স এবং চিকিৎসকদের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে ম্যানেজমেন্ট প্রটোকলের উপরে তার সাথে সাথে প্রত্যেকদিন যে রোগী ভর্তি আছে প্রায় ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী জেলায় ভর্তি আছে প্রত্যেকটি রোগী সকাল- বিকেল নজরদারি রাখা হচ্ছে। দু'বেলা যাতে রক্ত পরীক্ষা হয় এবং এখান থেকে আমরা যাতে নজরদারি করতে পারি তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার জন্য একটা স্পেশাল টিম জেলা স্তরে ফ্যাসিলিটি টিম তৈরি করা হয়েছে। তারা ডেঙ্গু রোগীদের নজরদারি করছে। ফলোআপ করছে যার ফলে এখনো কোনো মৃত্যু হয়নি। বেসরকারী হাসপাতাল গুলো কেউও আমরা নজরদারি রেখেছি, তারাও যেন নিয়ম মেনে চিকিৎসা করে। সঠিক সময়ে যদি তাদের হাতের বাইরে যায় তাহলে যেন বড় হাসপাতালে রেফার করে দেয়। এমন কোন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং নজরদারি রয়েছে।
সব মিলিয়ে পূজোর মুখে ডেঙ্গু নিয়ে জেলার পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সতর্কতার পাশাপাশি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক ডঃ সৌম্য শংকর সারেঙ্গী।