Monday, November 2, 2026
আল্ট্রা লোকাল

এ কেমন চুরি,আস্ত পাহাড় গায়েব !!!

Published by Newz4 Admin |
পিউ নন্দী Posted by পিউ নন্দী
- October 06, 2026
— বিজ্ঞাপন —
Advertisement
এ কেমন চুরি,আস্ত পাহাড় গায়েব !!!

নিউজ ফোর,পুরুলিয়া, : ছিল পাহাড়। এখন সেখানে ধুলো উড়ছে। একের পর এক টিলা কেটে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর সেই পাথর যাচ্ছে ক্রাশার মেশিনে। প্রশ্ন উঠছে—এ ভাবেই কি ধীরে ধীরে আস্ত একটা পাহাড়ই গায়েব হয়ে যাচ্ছে? পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর-১ ব্লকের বেরো চণ্ডী পাহাড়কে ঘিরে এমনই অভিযোগে সরব এলাকার মানুষ।

 

একসময় এখানে হওয়ার কথা ছিল ‘গ্রানাইট হাব’। কিন্তু সেই প্রকল্পের বদলে বেরো পাহাড়ের বুকে এখন দেখা যাচ্ছে একের পর এক পাথর ক্রাশার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন মেশিন দিয়ে পাহাড় কেটে পাথর তোলা হচ্ছে। অথচ ওই পাথর ক্রাশারগুলির জন্য স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও NOC নেই। তাহলে পঞ্চায়েতের অনুমতি ছাড়াই কীভাবে পাহাড়ের বুকে একের পর এক ক্রাশার তৈরি হল? কার অনুমতিতে চলছে পাহাড় কাটা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।

 

পাহাড় বাঁচানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে রঘুনাথপুর-১ ব্লকের বেরো

 ও খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় থেকেই পাহাড় কাটার বিরোধিতায় আন্দোলনে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু আন্দোলন চললেও বন্ধ হয়নি পাহাড় কাটা। 

 

এর মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন—কোথাও পাহাড় কাটা যাবে না, গাছ কাটা যাবে না। পাহাড় বা গাছে কেউ হাত দিতে পারবেন না। কোনও নিলামও হবে না। তবে পুরনো প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেই বিষয়ে এখনও সরকারি আদেশনামা সামনে আসেনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পুরাতন বেরো থেকে চণ্ডী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিশাল মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড় বাঁচানোর দাবিতে স্লোগানে সরব হন তাঁরা। মিছিলে স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধু পাহাড়ই কাটা হচ্ছে না, সেই পাথর পরিবহনের জন্য গ্রামের রাস্তাগুলিরও বেহাল দশা হয়েছে।

 

 নতুন সরকারের কাছে এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—এবার সত্যিই বন্ধ হোক পাহাড় কাটা। এভাবে চলতে থাকলে মানচিত্র থেকে এই পাহাড়ের অস্তিত্বই মুছে যাবে একদিন। আগামী দিনে এই পাহাড়ের জায়গায় পড়ে থাকবে শুধু পাথরের স্তূপ আর ধুলো। 

— বিজ্ঞাপন —
Advertisement